আমাদের ইংরেজী কেন শেখা উচিত?

হা, আমাদের সত্যি ইংরেজি শেখা উচিত । কিন্তু এখানে প্রশ্ন হলো ইংরেজিই বা কেন? অন্যান্য ভাষাও তো আছে এই দুনিয়াতে। কেনই ইংরেজিকে এত গুরুত্ত দেওয়া হচ্ছে? এখন আমরা মূল বিষয়ে আসি, আসলে এই পৃথিবীতে অনেক ভাষা আছে যা দিনের পর দিন ব্যবহার হয়ে থাকে কিন্তু ইংরেজি হলো এমন একটি ভাষা যেই ভাষা কে অনেক দেশে প্রথম ভাষা হিসেবে ধরা হয়।

আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, ব্যবসার ক্ষেত্রে ইংরেজি হলো একটা দারুন মাধ্যম যার সাহায্যে আমরা যেকোনো মানুষের সাথে কথা বলতে পারি বা ব্যবসা করতে পারি।

ধরে নিন যে আপনি ভারতবাসী এবং আপনি ভারতের একটা ভালো কোম্পানি তে চাকরি করেন, এখন আপনার কোম্পানির বস আপনাকে একটা প্রজেক্ট এর কাজ দিলো যেটা আপনাকে ৩ মাসের মধ্যে কমপ্লিট করতে হবে, সেটা বড়ো কথা না, বস আপনাকে বললেন যে “১মাস চীন, ১মাস আমেরিকা আর ১ মাস আফ্রিকার কোনো এক কোম্পানির কর্মীদের সাথে তোমাকে এই প্রজেক্ট টা প্রসেস করে সাবমিট করতে হবে।

” এবং তোমাকে সামনের সপ্তাহ থেকেই এই কাজটা শুরু করতে হবে। দুঃখের বিষয় হলো আপনি শুধু বাংলা আর হিন্দি টা ভালোমতো জানেন, বাকি না জেনে থাকলে তখন আপনি কি করবেন?? এই এক সপ্তাহের মধ্যে কি করেই বা ৩ টি ভাষা শিখবেন? আপনি হয়তো প্রজেক্ট এর কাজটা ফেরত দিয়ে আসবেন আপনার বস কে কারণ আপনি ইংরেজি জানেন না।

মজার বিষয় হলো আপনি যদি শুধু ইংরেজি টা জানতেন তাহলে ঐ বাকি ৩ টা ভাষা শেখার কোনো দরকার ছিল না। আপনি যেখনেই যাবেন যদি আপনি ইংরেজি জানেন তাহলে আর কোথাও আপনাকে যেতে হবে না। আপনি যেকোন অসুবিধার সম্মুখীন করতে পারবেন। তাহলে ভেবে দেখুন আপনি যদি আগের থেকেই ইংরেজি টা জেনে থাকতেন তাহলে আপনি সুন্দরমত আপনার প্রজেক্ট টা কমপ্লিট করে বসকে সাবমিট করে দিতেন।

এটা হলো এক ধরণের সমস্যা যা ইংরেজি দিয়ে সমাধান করা যায়। এখন আমি আপনাকে এইরকম ৫ টি বড় বড় সমস্যার কথা বলবো যা শুধুমাত্র ইংরেজী দিয়ে সমাধান করতে পারবেন। চলুন শুরু করা যাক…১) শিক্ষার ক্ষেত্রে ইংরেজি খুবিই গুরুত্বপূর্ণ :

আপনি যে দেশের অধিবাসী হন না কেন আপনাকে শিক্ষা অর্জন করতেই হবে। শিক্ষা সবার অধিকার। এবার ধরা যাক আপনি আপনার সন্তান কে একটা ভালো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করালেন কিন্তু সে যদি ছোট থেকে একটুও ইংলিশ না জেনে থাকে তাহলে সে স্কুলের শুরুতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবে যেমন তার জল তেষ্টা পেলে, টয়লেট পেলে বা একটু শরীর খারাপ করলে তাকে আশা করি ইংরেজীতেই স্যার বা ম্যাডাম কে জানাতে হবে, বা স্যাররা কি বলছে সেটাও বুঝতে তাও প্রথম প্রথম অসুবিধে হবে।

তাই ইংরেজীর গুরুত্বটা শিক্ষার ক্ষেত্রে এতটাই জরুরি । দিনের পর দিন ইংলিশের চাহিদা বেড়েই যাচ্ছে । যেমন আমি আমার নিজের একটা অভিজ্ঞতার কথাই বলি, আমি বাঙালী এবং আমি ছোট থেকেই বাংলা মিডিয়াম স্কুল থেকেই পড়াশুনা করেছি কিন্ত যখন আমি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে এম. এস. সি করতে উত্তর প্রদেশের বেনারস হিন্দু উনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করতে যাই তখন আমি একটা বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হই, গিয়ে দেখি যে পুরো উনিভার্সিটিটা ইংলিশ মিডিয়াম মানে ক্লাস থেকে শুরু করে স্যার দের সাথে কথা বলতে গেলেও ইংলিশে বলতে হবে, এমনকি আমার বন্ধুরাও ইংরেজিতে কথা বলছে।

ক্লাসে কি হচ্ছে আমার সব মাথার উপর দিয়ে যেত, কিছুই বুঝতে পারতাম না, কারণ আমি ইংলিশে কাঁচা। ১মাস যাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নেই যে আমি আর এম. এস. সি. করবোনা, এই উনিভার্সিটি ছেড়ে দেব, কিন্ত অবশেষে অনেকটা পরিশ্রম করার পর ইংলিশটা আয়ত্ত করতে পেরেছিলাম বলে আমি আমার ডিগ্রি টা কমপ্লিট করে এসেছিলাম। তাই আমার কাছে ইংলিশটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ কারণ একটা সময় ছিল যখন আমি ইংলিশ দেখলেই ভয় পেতাম, ইংলিশ শুনলেই বিষের মতো কাটা দিত, সেখানে আজ আমি ইংলিশ দেখলে আর ভয় পাইনা।২) ইংরেজি আপনার চাকরির রাস্তা খুলে দেয়:

হা, ইংরেজি জানা থাকলে আপনি খুব সহজেই কোনো চাকরি পেতে পারেন কারণ ইংরেজি হলো খুব সাধারণ ভাষা যেই ভাষা সব দেশের সব কোম্পানিতে প্রচুর পরিমানে ব্যবহার করা হয়। আপনি এখানে বসে নর্থ কোরিয়ার একটা মানুষের সাথে কথা বলতে পারেন শুধুমাত্র ইংলিশের মাধ্যমে, কারণ ওই দেশের লোকটি বাংলা জানেন না আর আপনিও ওই দেশের ভাষা জানেন না ।

এই পৃথিবীতে অনেক কোম্পানি আছে যেখানকার মালিক চায় যে তার কোম্পানিতে যারা কাজ করে তারা যেন ইংরাজিতে কথা বলে। তাই আপনি যদি কোনো কোম্পানিতে চাকরি করতে চান বা কোনো কোম্পানীতে ইন্টারভিউ দিতে যান তাহলে তো আপনাকে অবশ্যই আগে ইংলিশ জেনে যেতে হবে নাহলে আপনার অসুবিধে আছে।

শুধু কোম্পানিই না সরকারি হোক বা বেসরকারি আপনার ইংলিশ লাগবেই। উপরের পয়েন্ট এ আমি আপনাকে আমার অভিজ্ঞতার বলেছি যে আমার ইংলিশে কতটা ভয় ছিল ওটাকে কিভাবে আয়ত্ত করেছি, আজ যেমন আমি নিজেই ইংলিশটা শিখতে পেরেছি বলে একটা পার্ট টাইম জব পেয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো পাবো।

আমরা যতদূর পড়াশুনা করে নিই না কেন আমরা যদি ইংরেজি না জানি তাহলে আমারা যেকোনো জায়গায় গিয়ে আটকে যাবো, কারণ ইংলিশটা হল একটা রাস্তা বা ব্রিজ যার উপর দিয়ে আমরা চাকরি পর্যন্ত পৌছাতে পারি। ধরে নিলাম আপনি খুব সহজেই একটা চাকরি পেয়ে গেলেন কিন্তু যদি কোনো একদিন আপনার বস আপনাকে একটা কাজ দেয় যেটা আপনাকে অন্য দেশের কোনো কর্মীর সাথে কাজটা প্রসেস করতে হবে বা ওই কর্মীর সাহায্য লাগবে তখন আপনি কি করবেন?

আপনার ইংরেজী না জানার কারণে আপনি হয়তো কাজটা করতে চাইবেন না বা কাজটা করতে পারবেন না। তাই যে চাকরিই হোক না কেন ইংরেজি জানা টা আমাদের খুবিই জরুরি।৩) ইংরেজি আপনাকে সবচেয়ে শিক্ষিত বানাবে :

শিক্ষার ক্ষেত্রে এটা দেখা যায় যে একটা ছাত্র যখন তার ১২ ক্লাস কমপ্লিট করে ফেলে তারপর সে কোনো একটা কলেজে বি. এস.সি, বি. এ., বি কম, বি টেক, বি. সি. এ., পেরামেডিক্যাল, নার্সিং, এম বি বি এস, বি ফার্ম এইরকম নানান কোর্স নিয়ে ভর্তি হতে পারে সে যেই সাবজেক্ট হোক: ফিজিক্স, ম্যাথ, কেমিস্ট্রি, কম্পিউটার সায়েন্স, সোশ্যাল সায়েন্স।

এখন আসল কথা হলো সে এই যেকোনো সাবজেক্ট নিয়ে যেকোনো কোর্সে ভর্তি হোক না কেন তাকে ইংলিশ মাধ্যমেই পড়তে হবে মানে তার সমস্ত বই ইংলিশ মিডিয়াম, ক্লাসও ইংলিশ মিডিয়াম, এমনকি তার সমস্ত পরীক্ষা ইংলিশ মিডিয়ামেই হবে।

এখন যদি আপনি এম. এস. সি. এর স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন এবং আপনার সাবজেক্ট যদি ফিজিক্স বা ম্যাথ বা কেমিস্ট্রি বা কম্পিউটার সায়েন্স হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে একটা অনলাইন কোর্স করতে হবে এবং আমরা সবাই জানি যে অনলাইন কোর্স ইংলিশ মাধ্যমেই হয় মানে ভিডিও দেখা থেকে শুরু করে প্রশ্ন-উত্তর, পরীক্ষা, এসাইগন্মেন্ট, প্রজেক্ট সবকিছুই আপনাকে ইংলিশেই সাবমিট করতে হবে।

এবার ধরে নিলাম এম. এস. সি ডিগ্রির পর আপনি আপনার সাবজেক্টের উপর পি. এইচ ডি. করতে চান, তাহলে আপনাকে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর একটা রিসার্চ পেপার বানাতে হবে পাঁচ বছরের মধ্যে। এবং আপনাকে ওই পাঁচ বছরে অনেকটা পড়াশুনা করতে হবে।

এখন আপনি যদি ইংলিশ ভালো না জানেন তাহলে আপনি কিভাবে পি. এইচ ডি. কমপ্লিট করবেন? কারণ পুরোটাই আপনাকে ইংলিশেই করতে হবে। আপনি যদি ইংলিশে ভালো হন তাহলে আশা করি পুরো পি. এইচ ডি. তে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে না। তাই আমরা বলতেই পারি যে ইংলিশ আপনাকে দিনে দিনে শিক্ষিত থেকে শিক্ষিততোর বানাবে।8) আপনার ভ্রমণ বা যাত্রা আরো ভালো হবে :

হা, এটা সত্যি যে আপনি পৃথিবীর যে কোনেই যান না কেন আপনার ব্যাগে যদি ইংলিশ থাকে মানে আপনি যদি ইংলিশ জেনে থাকেন(বাকি কোনো ভাষা নাই জেনে থাকেন) তাহলে আপনি নিঃসন্দেহে আরামে ভ্রমণ করতে পারবেন, কিন্তু আপনি যদি ইংলিশটাই না জেনে থাকেন তাহলে তো আপনার অসুবিধা আছেই কারণ আপনি দূরে কোথাও ভ্রমণে গেলে সেখানে অনেক ধরণের অনেক জায়গার মানুষ থাকবেই যারা বাংলা জানেন না,

এবং আপনিও ওদের ভাষা জানেন না তখন আপনি যদি কোনো সমস্যার পড়েন তখন আপনি সামনের জনকে কিভাবে আপনার সমস্যার কথা বলবেন?কিভাবে আপনার ভাষা বোঝাবেন?এখানেই সমস্যা। ভ্রমণে বেশিরভাগ মানুষ এমন একজনকে খোঁজে যে ইংলিশ জানে এমনকি তাকে বন্ধও বানাতে চায়।

আপনি তো বাঙ্গালী, এবার ধরে নিন আপনি আপনার পরিবারকে নিয়ে আফ্রিকার আমাজন অববাহিকায় ঘুরতে গেছেন, এবার আপনি সেখানে গিয়ে আগেই একটা হোটেল বুক করতে চাইবেন। হোটেলে গিয়ে আপনি হোটেলের মালিককে কি বলবেন?

যে “আমরা ৫ জন আছি, আমায় একটা ভালো দেখে রুম দিন!!” মালিক কোনো উত্তর না দিয়ে আপনাকে পাশেই একটা কর্মীর কাছে পাঠিয়ে দেবে যে ইংলিশ জানে, আপনাকে তাকেই গিয়ে ইংলিশে বলতে হবে যে “We are 5 members, I need a room that looks good”

কারণ আজকাল প্রতিটা হোটেলেই একটা স্টাফ(ইংলিশ কনভার্টার) রাখা হয় যার সাথে আপনি ইংলিশে আপনার কথা বলতে পারবেন এবং এতে আপনারও লাভ আর হোটেলের মালিকেরও লাভ। এবার ধরে নিলাম আপনি ভালো ভালোয় রুম পেয়ে গেলেন, ফ্রেশ হয়ে আপনারা সবাই তো ঘুরতে বেরোবেন, এবার বিকেল হলে আপনারা টিকিট কেটে আমাজন জঙ্গলে প্রবেশ করছেন, এবার জঙ্গলে ঢুকার আগেই আপনি দেখলেন যে সামনে বড়ো করে একটা সাইন বোর্ড টাঙানো আছে,

যেখানে লেখাটা পুরো ইংলিশে, আপনি তো না পরেই ঢুকে যাবেন, কারন ইংলিশ তো জানেন না আর টিকিটও কেটে ফেলেছেন। সেই সাইন বোর্ডে এমন কিছু লেখা আছে যা জঙ্গলের মধ্যে করা যাবে না যেমন এই দিক টা যাওয়া যাবে না, ধূমপান করা যাবে না, এই সময়ের মধ্যে ফিরে আসতে হবে অনেককিছু হতে পারে, আপনি তো কিছুই না পড়ে আপনার পরিবারকে নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে আরামে ঘুরছেন, কিন্তু আরামটা কখন বেআরাম হবে আপনি নিজেও টের পাবেন না।

সে যাই হোক আরাম বা বেআরাম আপনি রাতে বাড়ি ফিরলেন। সকালে হয়তো আপনাকে একটু হলেও বাজার করতে বের হতে হবে। আপনি সকালে বের হলেন বাজার করতে, গিয়ে দোকানদারকে কি বলবেন ? “যে আমাকে এক কিলো আলু আর পিয়াজ দিন।” না বাংলা একদম চলবে না, হয় আপনাকে সেখানকার লোকাল ভাষা জানতে হবে নাহয় আপনাকে ইংলিশ জানতে হবে। তাই ইংলিশ হলো এমন একটা মাধ্যম যেটা জেনে থাকলে আপনার যাত্রা যতদূর যতদিনের হোক না কেন আপনার কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।৫) ইন্টারনেটের মাধ্যমটাই হলো ইংলিশ :

এখন যুগ টাই পুরোপুরি ইন্টারনেটের যুগ। আমরা যাই করি না কেন ইন্টারনেট আমাদের দরকার, কারন কোনো স্কুল বা কলেজের ফ্রম ফিল আপ থেকে শুরু করে, অনলাইন কাউন্সিল, রেল টিকিট, বাস টিকিট, প্ল্যান টিকিট সবকিছুই আপনাকে ইন্টারনেট এর সাহায্যেই করতে হবে। এবার আসি সোশ্যাল মিডিয়াতে, ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসএপ, ইনস্টাগ্রাম সব ক্ষেত্রেই আপনাকে একাউন্ট বানাতে হবে বা চ্যাট করতে হবে।

এবার মূল বিষয় হলো এগুলোর সবকটি ইংলিশ মাধ্যমে হয়, কারণ সবকটার লেখা পুরোপুরি ইংলিশে থাকে, ইন্টারনেট এর আউটলাইনটাই ইংরেজিতে যেমন নিউজ পেপার, ম্যাগাজিন, রেডিও, টিভি আরো অনেককিছু। আপনি যদি কোনো ইংলিশ মুভি দেখেন তাহলে দেখবেন যে ভিডিও টার নিচের দিকে ইংলিশ সাবটাইটেল দেওয়া থাকে যাতে আপনার ইংলিশটা শুনতে ও বুজতে সুবিধা হয়।

তাই ইংলিশ হলো খুব শক্তিশালী ভাষা যেটাকে আমরা ভালোভাবে ব্যবহার করে ভালো জায়গায় যেতে পারি, তাই আপনি যদি সত্যি ইংলিশ না জেনে থাকেন তাহলে আজ থেকেই ইংরেজি শেখা শুরু করে দিন।